১৯৩০ এর দশকে বাঁশখালী ছিল এক অনুন্নত জনপদ, বিদেশী ও উপনিবেশিক ইংরেজ শাসনের অধীনে বলতে গেলে শিক্ষা ও জনকল্যাণ মুখী কোন অবকাঠামোই ছিল না এই বাঁশখালীতে। বাঁশখালী সীমারেখার উত্তরে শংখ নদী, দক্ষিণে বর্তমানের পেকুয়া ও চকরিয়া উপজেলা, পূর্ব দিকে বাঁশখালীর পাহাড় শ্রেনী ও পশ্চিমে সমান্তরালভাবে বিশাল বঙ্গোপসাগর। তখনকার দিনে এই বাঁশখালী উপজেলা ছিল বলতে গেলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন একটি জনপদ। যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল একমাত্র নৌকা-সাম্পান। বাঁশখালীর উত্তর-দক্ষিণ বিস্তৃত জলকদল খাল দিয়ে উত্তর দিকে শংখ নদী বেয়ে ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিক হয়ে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে নৌকা-সাম্পানে বিপদ মাথায় চট্টগ্রাম শহরে যাতায়াত করতে হত। এলাকার অভ্যন্তরে একমাত্র পদব্রজেই চলতে হত। বর্ষার সময় চলাচল ও যোগাযোগ ছিল দুরতিক্রম্য।
এহেন প্রাকৃতিক অবস্থান ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রেক্ষাপটেই বাঁশখালীর অন্যতম ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব, প্রখ্যাত জমিদার মরহুম শেখ ওয়াজেদ আলী চৌধুরী শিক্ষা বিস্তারে অবহেলিত দেশবাসীকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলার ইচ্ছা পোষণ করেন। আর সেই মহান লক্ষ্য পূরণে এ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। নানা প্রতিকূলতা, অবিশ্বাস্য কষ্ট ও শ্রমের মাধ্যমে তিনি এ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর এ কঠিন কাজে তাঁকে সাহায্য করেন কালীপুর নিবাসী তার খালু মনীষী, দার্শনিক ও পীর জনাব শাহ্ মোহাম্মদ বদিউল আলম, তাঁর জামাতা এডভোকেট জনাব সিরাজুল হক চৌধুরী, চাম্বল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা তাঁর অন্যতম আপনজন চাম্বল নিবাসী জনাব হামিদ আলী চৌধুরীসহ আরো কয়েকজন। বাঁশখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ‘‘বাঁশখালী উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়’’ (BANSKHALI HIGH ENGLISH SCHOOL) নামেই প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম ১৯৩৬ সালে তৎকালীন "কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়"-এর অধীনে প্রথম ব্যাচ প্রবেশিকা পরীক্ষা দেয়।.